একটি মাত্র রোগীর জন্য প্রস্তুত এক বেডের নতুন হাসপাতাল
একজন রোগীর জন্য একটি মাত্র বেডের নতুন একটি হাসপাতাল। সেই হাসপাতালে থাকছে একটি অপারেশন থিয়েটার, আই.সি.ইউ., ভিডিও কনফারেন্সিং-এর একটি ঘর, ডাক্তারদের দু'টি ঘর, দু'টি রেস্ট রুম এবং অ্যাটেন্ডেন্টদের একটি ঘর। মোট খরচ হচ্ছে 2 কোটি টাকা। এই বিপুল আয়োজন করছে মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতাল। কিন্তু রোগীটি কে? এতো বিপুল আয়োজন যার জন্য তিনি কী কোনও সেলিব্রিটি?

ওয়েব ডেস্ক: একজন রোগীর জন্য একটি মাত্র বেডের নতুন একটি হাসপাতাল। সেই হাসপাতালে থাকছে একটি অপারেশন থিয়েটার, আই.সি.ইউ., ভিডিও কনফারেন্সিং-এর একটি ঘর, ডাক্তারদের দু'টি ঘর, দু'টি রেস্ট রুম এবং অ্যাটেন্ডেন্টদের একটি ঘর। মোট খরচ হচ্ছে 2 কোটি টাকা। এই বিপুল আয়োজন করছে মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতাল। কিন্তু রোগীটি কে? এতো বিপুল আয়োজন যার জন্য তিনি কী কোনও সেলিব্রিটি?
না, এই রোগী কোনও সেলিব্রিটি নন। ইনি ইমন আহমেদ। বিশ্বের সবচেয়ে হেভি ওয়েট মহিলা। ওজন 500 কেজি। মিশরের এই মেয়ে ছোট থেকে মোটেই এমন হেভি ওয়েট ছিলেন না। বর্তমানে তাঁর বয়স 36 বছর। মাত্র 11 বছর বয়স থেকে ইমনের ওজন হঠাত্ করেই বাড়তে থাকে হু হু করে। আর তার ফলে প্রায় এক দশক ঘর থেকে বেরতে পারেন না ইমন। শরীরে বাসা বাঁধে একাধিক সমস্যা। তাঁর চিকিত্সার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালের বোরিয়াট্রিক সার্জেন মুফফি লকড়াওয়ালা। এখানেই বোরিয়াট্রিক সার্জারি হবে ইমনের এবং অপারেশনের পর আরও ছয় মাস থাকতে হবে হাসপাতালে। তাই এই বিপুল আয়োজন।
আরও পড়ুন- সবচেয়ে পুরনো যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন বায়ুসেনা প্রধান ধানোয়ার
প্রাথমিকভাবে ইমন ভারতে চিকিত্সা করাতে আসার ভিসা পাচ্ছিলেন না। পরে লকড়াওয়ালা ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বারাজকে অনুরোধ করেন ইমনের মেডিক্যাল ভিসা মঞ্জুর করার জন্য। সুষমার হস্তক্ষেপে মঞ্জুর হয় ভিসা। তার পর বাঁধে নতুন বিপত্তি। কায়রো থেকে মুম্বাই পর্যন্ত কোনও বিমান নেই। এবং অধিকাংশ বিমান সংস্থাই জানিয়ে দেয় যে 500 কেজির রোগীকে বহন করার জন্য কোনও স্ট্রেচার নেই তাদের। ফলে ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমান ছাড়া কোনও গতি নেই। অবশেষে তেমনই ব্যবস্থা হয়েছে। তবে ঠিক কবে ইমন মুম্বাইয়ের হাসপাতালে আসছেন তা এখনও জানা যায়নি।
ভিন দেশী এক অসহায় রোগীর জন্য মুম্বাইয়ের ডাক্তার মুফফি লকড়াওয়ালার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। আর পুরো চিকিত্সার জন্য কোনও খরচ করতে হবে না ইমনের পরিবারকে বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। সব মিলিয়ে মিশরের ইমনের অন্ধকার জীবনে এখন অকমাত্র আলোর দিশা মুম্বাইয়ের আরোগ্য কেন্দ্র। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন ইমন, ২৪ ঘন্টা ডট কমের তরফ থেকে রইল তাঁর জন্য এক আকাশ শুভেচ্ছা।